গত এক সপ্তাহে টিভি, ইউটিউব আর ফেসবুকে একটাই খবর: ছাদে সোলার বসালে সরকার ১০.৫০ টাকায় বিদ্যুৎ কিনবে। সত্যি। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিদ্যুৎ বিভাগ গেজেট করেছে। কিন্তু টিভির খবরে যেটা বলা হচ্ছে না: সব সোলার সিস্টেম এই সুবিধা পাবে না, আর শুধু বিক্রির টাকায় ৩ বছরে সিস্টেমের দাম উঠবে না। এই পোস্টে গেজেটে আসলে কী আছে, কোন সিস্টেম যোগ্য, নেট মিটারিং কীভাবে করবেন, আর ৩kW/৫kW/১০kW-এ মাসে আনুমানিক কত টাকা: সব হিসাবসহ।
১০.৫০ টাকার প্রণোদনাটা আসলে কী?
নিজের বাসার ব্যবহারের পর ছাদের সোলার থেকে যে বাড়তি (উদ্বৃত্ত) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাবে, সরকার সেটা ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকায় কিনবে: বিদ্যুৎ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর গেজেট অনুযায়ী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সিস্টেম বসাতে হবে, আর এই দর মিলবে বসানোর পর থেকে তিন বছর, সর্বোচ্চ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত।
গেজেটের মূল শর্তগুলো এক জায়গায়:
- দর: ইউনিটপ্রতি ৳১০.৫০, শুধু গ্রিডে পাঠানো বাড়তি বিদ্যুতের জন্য। আপনার নিজের ব্যবহারের বিদ্যুৎ এতে গোনা হবে না, সেটার লাভ হলো বিল বাঁচানো।
- সময়সীমা: ইনস্টল ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে; দর কার্যকর ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই তারিখের পরে বসানো সিস্টেম প্রণোদনার আওতায় আসবে না।
- ব্যাটারিসহ সিস্টেম: গেজেটের ভাষায় “ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ”, উৎপাদন খরচ ৮ টাকা ধরে তার ওপর লাভ ও প্রিমিয়াম যোগ করে ১০.৫০ টাকা দর ঠিক করা হয়েছে।
- টাকা পাবেন কীভাবে: প্রতি তিন মাস অন্তর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ। হিসাব রাখবে আপনার বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো, ওজোপাডিকো বা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি)।
- যন্ত্রপাতির মান: প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটার: সব বিএসটিআই ও স্রেডার নির্ধারিত মান মেনে হতে হবে।
- সরকারের লক্ষ্য: এক বছরে ৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সোলার।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২ সেপ্টেম্বর আলাদা করে বলেছেন সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে (শর্তসাপেক্ষে)। দোকানের দামে সেটা কতটা নামবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়: নিচে “যা এখনো স্পষ্ট নয়” অংশে বলেছি।
কোন সিস্টেম এই সুবিধা পাবে: অফ-গ্রিড, অন-গ্রিড নাকি হাইব্রিড?
যে সিস্টেম গ্রিডে বিদ্যুৎ পাঠাতে পারে, শুধু সেটাই। সোলার আইপিএস বা অফ-গ্রিড সিস্টেম (যেখানে ইনভার্টার গ্রিডের সঙ্গে সিঙ্ক করে না) এক ইউনিটও গ্রিডে দিতে পারে না, তাই ১০.৫০ টাকার প্রশ্নই আসে না।
তিন ধরনের সিস্টেম, সোজা কথায়:
- অফ-গ্রিড / সোলার আইপিএস: গ্রিডে বিদ্যুৎ দেয় না। লোডশেডিংয়ে ব্যাটারি থেকে ঘর চলে। প্রণোদনা পাবে না।
- অন-গ্রিড (শুধু গ্রিড-টাই ইনভার্টার, ব্যাটারি নেই): গ্রিডে দেয়। কিন্তু গ্রিড গেলে ইনভার্টারও বন্ধ, ঘর চলে না। গেজেটে “ব্যাটারিসহ” লেখা থাকায় প্রণোদনা পাবে কি না অনিশ্চিত।
- হাইব্রিড (ব্যাটারি + গ্রিড-টাই ইনভার্টার): গ্রিডে দেয়, লোডশেডিংয়েও ঘর চলে। প্রণোদনার শর্ত পূরণ করে।

দুটো জিনিস বাংলাদেশের জন্য জরুরি:
এক, গ্রিড না থাকলে অন-গ্রিড ইনভার্টার নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় (অ্যান্টি-আইল্যান্ডিং: লাইনম্যানের নিরাপত্তার জন্য)। ইউটিউবের কমেন্টে অনেকে ঠিকই ধরেছেন: “বিদ্যুৎ না থাকলে অন-গ্রিড সিস্টেম কাজ করে না।” সত্যি। দিনে ৪–৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হলে শুধু-অন-গ্রিড সিস্টেম ওই সময়ে না ঘর চালায়, না গ্রিডে দেয়। হাইব্রিডে গ্রিড গেলে ইনভার্টার ব্যাটারি আর প্যানেল থেকে ঘর চালিয়ে যায়; গ্রিড ফিরলে আবার বাড়তিটা পাঠায়।
দুই, গেজেটে “ব্যাটারিসহ” শব্দটা আছে। আমরা এখনো নিশ্চিত নই ব্যাটারি ছাড়া শুধু-অন-গ্রিড সিস্টেমকে বিতরণ কোম্পানি প্রণোদনার আওতায় ধরবে কি না। তাই আমাদের পরামর্শ: নতুন করে বসালে হাইব্রিড নিন: সেটা প্রণোদনার শর্তও পূরণ করে, লোডশেডিংয়ের সমাধানও দেয়। আমাদের ৩kW, ৫kW ও ১০kW প্যাকেজ তিনটাই হাইব্রিড ইনভার্টার আর LiFePO4 ব্যাটারিসহ। অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড আর হাইব্রিডের পার্থক্য বিস্তারিত: অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড নাকি হাইব্রিড ইনভার্টার?
আর একটা সৎ কথা: আমাদের ইনভার্টার পেজে যেমন লেখা আছে, SolaX বা LVTOPSUN কোনো মডেলেই বাংলাদেশের গ্রিড-কোড সার্টিফিকেশন আলাদা করে তালিকাভুক্ত নেই। নেট মিটারিংয়ের অনুমোদন আপনার বিতরণ কোম্পানি দেয়, আমরা না। কোন ব্র্যান্ড বা মডেল তারা গ্রহণ করে, আবেদনের আগে সেটা জেনে নেওয়া জরুরি: আমরা কাগজপত্র তৈরিতে সাহায্য করব, কিন্তু “অনুমোদন হবেই” এমন কথা কেউ দিতে পারে না।
নেট মিটারিং কীভাবে করবেন, কোথায় আবেদন?
আপনার বিতরণ কোম্পানির কাছে নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ অনুযায়ী আবেদন করতে হবে, আর গ্রিডে কত ইউনিট গেল তা মাপার জন্য একটা নেট মিটার (দ্বিমুখী মিটার) বসাতে হবে। সাধারণ মিটার বা প্রিপেইড মিটার উল্টো দিকের প্রবাহ মাপে না।
স্রেডার নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০২৫ থেকে যে নিয়মগুলো আপনার জানা দরকার (সারসংক্ষেপ):
- কে আবেদন করতে পারেন: বিতরণ কোম্পানির বৈধ, সচল গ্রাহক; বকেয়া বিল থাকা চলবে না; বাড়ির মালিক হতে হবে বা মালিকের লিখিত অনুমতি লাগবে।
- সিস্টেম কত বড় হতে পারবে: ইনভার্টারের AC ক্ষমতা আপনার অনুমোদিত লোডের (sanctioned load) বেশি হতে পারবে না। মানে আপনার সংযোগ ৫ kW হলে ১০ kW সিস্টেম নেট মিটারিংয়ে ঢুকবে না, আগে লোড বাড়াতে হবে।
- আবেদন: হার্ড কপিতে বিতরণ কোম্পানির অফিসে, বা অনলাইনে নেট মিটারিং পোর্টালে (nem.powerdivision.gov.bd)। বিদ্যুৎ বিভাগের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকেও সহায়তা পাওয়ার কথা।
- অনুমোদনের সময়: গাইডলাইন বলছে ১০ কর্মদিবস। আমাদের একজন গ্রাহকের ক্ষেত্রে অনুমোদনের চিঠি ইস্যুর পর নেট মিটারিং সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৫ দিন লেগেছিল; চিঠি পাওয়া পর্যন্ত সময়টা এলাকাভেদে আলাদা, নিচের কমেন্ট অংশে দেখুন।
- নেট মিটারের খরচ: আবেদনকারীর।
- যন্ত্রপাতি: স্রেডা-অনুমোদিত, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড / IEC মানের। ইনভার্টারের ক্ষেত্রে এটা আক্ষরিক, স্রেডা নাম ধরে অনুমোদিত মডেলের তালিকা রাখে: থ্রি-ফেজ ইনভার্টার ও সিঙ্গেল ফেজ ইনভার্টার।
- চুক্তি: পরিদর্শন ও পরীক্ষার পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে চুক্তি, সেদিন থেকেই বিক্রি শুরু।
ধাপগুলো সংক্ষেপে: আবেদন → বিতরণ কোম্পানির অনুমোদন → ইনস্টলেশন → পরিদর্শন → নেট মিটার → চুক্তি। আমরা ইনস্টলেশন করি এবং আবেদনের জন্য প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির স্পেক শিট দিয়ে দিই। আবেদন আপনার নামে, বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে।
কেনার আগে ইনভার্টারের মডেল নম্বরটা তালিকায় মিলিয়ে নিন। স্রেডার তালিকায় অনুমোদন দেওয়া হয় ব্র্যান্ড ধরে নয়, নির্দিষ্ট মডেল নম্বর ধরে। একই ব্র্যান্ডের একটা মডেল তালিকায় থাকতে পারে, পাশের মডেলটি না-ও থাকতে পারে। এই লেখার সময় থ্রি-ফেজ তালিকায় ২২২টি আর সিঙ্গেল ফেজ তালিকায় ৪০টি ইনভার্টার আছে। তালিকা সময়ে সময়ে বদলায়, তাই আবেদনের আগে একবার দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
আর নেট মিটারটিও বিতরণ কোম্পানি বা স্রেডার অনুমোদিত হতে হবে। গাইডলাইন অনুযায়ী গ্রাহক নিজে মিটার কিনে লাগাতে পারেন আর খরচও গ্রাহকের, তবে ব্র্যান্ড ও মডেল আগে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। আমাদের Secure Saral 305 থ্রি-ফেজ নেট মিটার পাতায় ধাপগুলো লেখা আছে।

৩kW, ৫kW, ১০kW সিস্টেমে মাসে কত টাকা আসতে পারে?
ঢাকায় প্রতি কিলোওয়াট-পিক প্যানেল থেকে বছরে প্রায় ১,৩৪০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়: ঢাকার একটি ২৭ kWp ছাদ-সিস্টেমের মাপা ফলাফল। এই সংখ্যা ধরে আমাদের তিনটা প্যাকেজের হিসাব নিচে; এর অর্ধেক গ্রিডে যাবে ধরা হয়েছে (বাকি অর্ধেক দিনে ঘরের লোড আর ব্যাটারি চার্জে যাবে)।
| প্যাকেজ | প্যানেল অ্যারে | মাসে আনুমানিক উৎপাদন | অর্ধেক গ্রিডে গেলে মাসে আয় (৳১০.৫০/ইউনিট) | ৩ বছরে বিক্রির আয় | প্যাকেজের দাম |
|---|---|---|---|---|---|
| ৩kW প্যাকেজ | ৩,১০০ Wp (৫ × LONGi ৬২০W) | প্রায় ৩৪৫ ইউনিট | প্রায় ৳১,৮০০ | প্রায় ৳৬৫,০০০ | ৳২,১২,৫০০ |
| ৫kW প্যাকেজ | ৪,৯৬০ Wp (৮ × LONGi ৬২০W) | প্রায় ৫৫০ ইউনিট | প্রায় ৳২,৯০০ | প্রায় ৳১,০৫,০০০ | ৳৩,৬১,৯০০ |
| ১০kW প্যাকেজ | ৯,৯২০ Wp (১৬ × LONGi ৬২০W) | প্রায় ১,১১০ ইউনিট | প্রায় ৳৫,৮০০ | প্রায় ৳২,১০,০০০ | ৳৫,৯৩,১০০ |
টেবিলটি ডানে-বামে সরিয়ে দেখুন →

সব সংখ্যা আনুমানিক। বর্ষায় কম, শীতে কম, বসন্তে বেশি: বছরের গড় ধরা। আপনার ছাদে ছায়া থাকলে কম। দিনে বাসা খালি থাকলে (সবাই অফিসে) গ্রিডে ৭০% পর্যন্ত যেতে পারে, তখন ৫kW-এ মাসে প্রায় ৳৪,০০০। আপনার লোড দিয়ে নিজে হিসাব করুন: সোলার ক্যালকুলেটর।
৩ বছরে কি সিস্টেমের দাম উঠবে?
শুধু গ্রিডে বিক্রির টাকায়, না। ওপরের টেবিলেই দেখুন: ৩ বছরের বিক্রির আয় প্যাকেজের দামের ৩০–৩৫%। সিস্টেমের দাম ওঠে দুটো জিনিস মিলিয়ে: নিজের ব্যবহারের বিল যেটা আর দিতে হচ্ছে না, আর তার ওপরে বিক্রির টাকা।
ইউটিউবের প্রায় প্রতিটা ভিডিওর নিচে সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া কমেন্ট এই ভয়টাই: “৩ বছর পর কী হবে? চালান তো উঠবে না।” সঠিক প্রশ্ন, আর উত্তরটা এমন:
- ৫kW সিস্টেম মাসে প্রায় ৫৫০ ইউনিট বানায়। যে অর্ধেক আপনি নিজে ব্যবহার করছেন, সেটা আপনার বিল থেকে সরাসরি কমছে: গড় খুচরা দর প্রায় ১০.৪০ টাকা/ইউনিট, বেশি ব্যবহারের স্ল্যাবে আরও বেশি। এটা প্রণোদনার ওপর নির্ভর করে না, ২০৩০-এর পরেও থাকবে।
- প্যানেলের পারফরম্যান্স ওয়ারেন্টি সাধারণত ২৫ বছর। ৩ বছরের ১০.৫০ টাকা হলো বাড়তি, মূল হিসাব বিলে। আমাদের পেব্যাক পিরিয়ডের পোস্টে প্রণোদনা ছাড়াই হিসাব করা আছে; প্রণোদনা সেটাকে ছোট করে, বদলায় না।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০-এর পর দর কী হবে, গেজেটে নেই। নেট মিটারিং গাইডলাইনে বাড়তি ইউনিট BERC-এর বাল্ক দরে হিসাব হওয়ার কথা, সেটা ১০.৫০-এর চেয়ে কম হবে ধরে নেওয়াই নিরাপদ।
বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের একটি মতামত আরেকটা বাস্তব সমস্যা তুলেছে: শুল্ক অব্যাহতি ঘোষণা হলেও ইনভার্টার ও ব্যাটারিতে করের বোঝা এখনো ভারী, আর বিতরণ কোম্পানিগুলো ছাদের বিদ্যুৎকে অনেক সময় “হারানো ব্যবসা” হিসেবে দেখে। এগুলো আমাদের হাতে নেই; আমরা শুধু আগে থেকে বলে দিতে পারি।
মানুষ আসলে কী জিজ্ঞেস করছে, ইউটিউব কমেন্ট থেকে
গেজেটের পর একাত্তর টিভি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির ভিডিওর নিচে তিনশর মতো কমেন্ট পড়েছি। একই প্রশ্ন বারবার। উত্তরগুলো এখানে, কারণ টিভি রিপোর্টে এগুলো নেই।
“নেট মিটারিং করতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি, কেউ দিচ্ছে না।”, সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া কমেন্টগুলো এটাই। একজন ৬ লাখ টাকার সিস্টেম বসিয়ে অনুমোদন পাচ্ছেন না; আরেকজনের ৪ kW সিস্টেম চলছে কিন্তু নেট মিটার নেই; পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বলছেন তাদের সমিতি নেট মিটারিং দিচ্ছেই না। এটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, এবং আমরা লুকাব না। আমাদের পরামর্শ: সিস্টেম কেনার আগে আপনার বিতরণ কোম্পানির অফিসে গিয়ে জেনে আসুন তারা আপনার এলাকায় নেট মিটারিং আবেদন নিচ্ছে কি না, আর সিঙ্গেল ফেজ সংযোগে নিচ্ছে কি না। যারা অনুমোদন নিশ্চিত হওয়ার আগে কিনতে চান না, তাদের জন্য হাইব্রিড সিস্টেমের সুবিধা হলো: অনুমোদন দেরি হলেও লোডশেডিং আর বিল বাঁচানোর কাজটা প্রথম দিন থেকেই হয়।
“আমার ৫ kW হাইব্রিড, বাসার লোড ৩ kW: বাকিটা বিক্রি করতে পারব?”: হ্যাঁ, ঠিক এই মডেলটাই প্রণোদনার লক্ষ্য। আগে ঘরের লোড, তারপর ব্যাটারি চার্জ, তারপর বাড়তিটা গ্রিডে। শর্ত: নেট মিটার আর অনুমোদন।
“বিদ্যুৎ ১০.৫০-এ বেচে আবার ১৮ টাকায় কিনব?”, না। নেট মিটারিংয়ে দিনে আপনার সোলার আগে আপনার ঘর চালায়; গ্রিড থেকে কেনেন শুধু রাতে বা ঘাটতির সময়। যেটা বিক্রি হয় সেটা আপনার ব্যবহারের পরে বাড়তিটা।
“বিদ্যুৎ না থাকলে তো নেট মিটার চলে না।”, ঠিক। গ্রিড না থাকলে কোনো সিস্টেমই গ্রিডে পাঠাতে পারে না। পার্থক্য হলো, হাইব্রিড তখন ঘর চালায়, শুধু-অন-গ্রিড বন্ধ থাকে।
“টাকা নগদে দেবে না বিকাশে?”: গেজেট অনুযায়ী ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, তিন মাস পর পর। নগদ নয়। কেউ কেউ লিখেছেন ভারতের মতো শুধু বিলে ক্রেডিট দেবে, বাংলাদেশের গেজেটে টাকা দেওয়ার কথাই বলা আছে।
“প্রিপেইড মিটার আছে, মাসে ২,৫০০ টাকা বিল: আমার কী হবে?”, প্রিপেইড মিটার দ্বিমুখী প্রবাহ মাপে না; নেট মিটার আলাদা করে বসাতে হবে। ২,৫০০ টাকার বিল মানে গড় দরে মাসে মোটামুটি ২৪০ ইউনিট: একটা ৩kW সিস্টেম দিনের ব্যবহার আর সন্ধ্যার ব্যাকআপ দুটোই দিতে পারে; বিক্রি করার মতো বাড়তি খুব বেশি থাকবে না, কিন্তু বিলটা প্রায় শূন্যের কাছে নামবে। কত কিলোওয়াট লাগবে, এই পোস্টে হিসাব।
“বর্ষায় ৩–৪ মাস সূর্য থাকে না, শীতে উৎপাদন কমে।”: কমে, কিন্তু শূন্য হয় না। ওপরের ১,৩৪০ ইউনিট/kWp সংখ্যাটা বর্ষা-শীত সব মিলিয়ে বছরের গড়।
“লিথিয়াম ব্যাটারি বাধ্যতামূলক করে খরচ বাড়িয়ে দিল।”: ব্যাটারি ছাড়া সিস্টেম সস্তা, সত্যি। কিন্তু বাংলাদেশে দিনে কয়েক ঘণ্টা গ্রিড না থাকলে ব্যাটারি ছাড়া সিস্টেম ওই সময়ে কিছুই করে না। ব্যাটারি প্রণোদনার শর্তের জন্য নয়, লোডশেডিংয়ের জন্য লাগে। কোন ব্যাটারি কেন: LiFePO4 নাকি লেড-অ্যাসিড।
“সোলার প্যানেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।”, এই ভয় বাজারে আছে। আমাদের দিক থেকে: প্যানেলের দাম প্রোডাক্ট পেজে লেখা থাকে, বদলালে সেখানেই বদলাবে।
আমাদের নিজের অভিজ্ঞতা, যাতে ওপরের ভয়টা একটু মাপা যায়: আমাদের একজন গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিতরণ কোম্পানি অনুমোদনের চিঠি ইস্যু করার পর নেট মিটারিং সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৫ দিন লেগেছে। অর্থাৎ একবার চিঠি হাতে এলে বাকিটা দ্রুত। সময় যায় তার আগে, আবেদন থেকে চিঠি পর্যন্ত, আর সেটা এলাকা ও অফিসভেদে আলাদা। এই একটা ঘটনা থেকে সবার জন্য নিয়ম বানানো যায় না; তবে ইউটিউব কমেন্টে যে “কখনোই হয় না” ধরনের কথা ঘুরছে, সেটাও সব জায়গার সত্যি নয়।
যা এখনো স্পষ্ট নয়
আমাদের প্রোডাক্ট পেজের মতো এখানেও যেটা জানি না সেটা বলছি:
- ব্যাটারি ছাড়া শুধু-অন-গ্রিড সিস্টেম প্রণোদনা পাবে কি না। গেজেটে “ব্যাটারিসহ” লেখা; বিতরণ কোম্পানি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, জানা যায়নি।
- সিঙ্গেল ফেজ সংযোগে নেট মিটারিং। গাইডলাইনে বাধা নেই, কিন্তু কমেন্টে একাধিক গ্রাহক লিখেছেন তাদের এলাকায় শুধু থ্রি-ফেজে নেট মিটার দিচ্ছে। এলাকাভেদে আলাদা হতে পারে।
- কোন ইনভার্টার ব্র্যান্ড/মডেল বিতরণ কোম্পানি গ্রহণ করে, কোনো প্রকাশিত তালিকা পাইনি।
- শুল্ক অব্যাহতি দোকানের দামে কবে নামবে। ঘোষণা হয়েছে; আমদানি পর্যায়ে কীভাবে কার্যকর হচ্ছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
- ২০৩০-এর পর দর।
এগুলোর কোনোটা নিশ্চিত হলে এই পোস্ট আপডেট করা হবে।
এরপর কী করবেন
তাড়াহুড়ো নেই: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় আছে, তবে বিতরণ কোম্পানির অনুমোদনে সময় লাগছে বলে আবেদনটা আগে শুরু করা ভালো। আপনার গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল আর ছাদের মাপ নিয়ে আমাদের ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন: আমরা লোড হিসাব করে বলে দেব কোন প্যাকেজ আপনার জন্য, আর কোনটা আসলে দরকার নেই। ফোন: ০১৭১১-৪৫৬১৬৬ · শোরুম: কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স, ভবন ০১ (১ম তলা), দোকান নং ১৮৯, ঢাকা ১২০৩।
একসাথে পুরো টাকা দেওয়া কঠিন মনে হলে কম সুদের ব্যাংক ঋণের পথও আছে, বিস্তারিত লিখেছি ছাদে সোলারের জন্য ব্যাংক ঋণ লেখায়।

মন্তব্য করুন