সোলারে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করার আগে সবচেয়ে যৌক্তিক প্রশ্নটাই হলো — খরচটা কত দিনে উঠে আসবে? হিসাবটা সহজ, আর পুরোটাই আপনি নিজে করতে পারেন: দিনে যত ইউনিট উৎপাদন হবে × ৩০ দিন × আপনার ইউনিটপ্রতি দাম = মাসিক সাশ্রয়। প্যাকেজের দামকে সেই সাশ্রয় দিয়ে ভাগ করলেই পেয়ে যাবেন কত মাসে খরচ উঠবে।
আপনার ইউনিটপ্রতি দাম কীভাবে বের করবেন?
সবশেষ বিদ্যুৎ বিলটা বের করুন: বিলের মোট টাকাকে ব্যবহৃত ইউনিট দিয়ে ভাগ করলেই আপনার ইউনিটপ্রতি গড় দাম পেয়ে যাবেন। ডিমান্ড চার্জসহ পুরো টাকাটাই ধরবেন — কারণ সোলার যে ইউনিট বাঁচাবে, তার পুরো টাকাটাই আপনার পকেটে থাকবে।
তিনটি প্যাকেজে মাসে কত ইউনিট পাওয়া যায়?
প্যাকেজ পেজে প্রকাশিত সারা বছরের গড় ধরলে: ৩ কিলোওয়াটে দিনে ১১.১ ইউনিট — মাসে প্রায় ৩৩৩ ইউনিট। ৫ কিলোওয়াটে ১৭.৮ — মাসে প্রায় ৫৩৪। ১০ কিলোওয়াটে ৩৫.৬ — মাসে প্রায় ১,০৬৮ ইউনিট।
একটা খোলা উদাহরণ
ধরা যাক, আপনার ইউনিটপ্রতি খরচ ৳১০ — এটা উদাহরণের জন্য নেওয়া সংখ্যা, আপনার বিল থেকে বের করা সংখ্যাটাই বসাবেন। তাহলে হিসাব দাঁড়ায়:
| প্যাকেজ | মাসিক সাশ্রয় (৳১০/ইউনিট ধরলে) | আনুমানিক পেব্যাক |
|---|---|---|
| ৩ কিলোওয়াট (৳২,১২,৫০০) | প্রায় ৳৩,৩৩০ | প্রায় ৬৪ মাস (৫.৩ বছর) |
| ৫ কিলোওয়াট (৳৩,৬১,৯০০) | প্রায় ৳৫,৩৪০ | প্রায় ৬৮ মাস (৫.৭ বছর) |
| ১০ কিলোওয়াট (৳৫,৯৩,১০০) | প্রায় ৳১০,৬৮০ | প্রায় ৫৬ মাস (৪.৬ বছর) |
প্যানেল এর পরেও বহু বছর বিদ্যুৎ দিতে থাকে — পেব্যাকের পরের প্রতিটি ইউনিটই তখন সরাসরি সাশ্রয়।
এই হিসাব কখন মিলবে না?
চারটা বিষয় মনে রাখুন। এক: হিসাবটা তখনই মিলবে যখন উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় পুরোটাই কাজে লাগবে। দুই: বর্ষায় উৎপাদন কমে — মেঘলা দিনে ৩ কিলোওয়াটে ৪.৪, ৫-এ ৭, ১০-এ ১৩.৯ ইউনিট; গড় সংখ্যায় সেটা আগেই ধরা আছে, তবে বছরের মাসে মাসে সাশ্রয় ওঠানামা করবে। তিন: ইনস্টলেশনের খরচ এ হিসাবে নেই — সেটা যোগ করলে পেব্যাক কিছুটা বাড়বে। চার: বিদ্যুতের দাম বাড়লে পেব্যাক উল্টো কমে আসবে।
এরপর কী?
কোন মাপের সিস্টেম আপনার লোডে লাগবে জানতে তিন প্যাকেজের তুলনা দেখুন বা সোলার ক্যালকুলেটরে নিজেই হিসাব করুন। নিজের বিল সামনে নিয়ে ০১৭১১-৪৫৬১৬৬ নম্বরে কল করলে আমরা আপনার নিজের ইউনিটপ্রতি দাম ধরে হিসাবটা করে দেব — পরামর্শ ফ্রি। কমপ্লিট প্যাকেজগুলো দেখুন।

মন্তব্য করুন