ছাদে সোলারের জন্য ব্যাংক ঋণ: সুদ কত, কোথায় পাবেন, কী নিয়ম

/লিখেছেন / 0

খবরের শিরোনাম হয়তো দেখেছেন: ছাদে সোলার বসালেই সহজ ঋণের সুযোগ। কথাটা কতটুকু সত্যি, আর সুযোগটা আসলে কোথায়? ছোট উত্তর: সোলার প্যানেলের জন্য কম সুদের ব্যাংক ঋণ আসলেই আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন রিফাইন্যান্স স্কিমে। সাধারণ ঋণের সুদ যেখানে ১৪–১৫ শতাংশ, এই স্কিমে সুদ সর্বোচ্চ প্রায় ৫ শতাংশ। সমস্যা একটাই: ব্যাংক নিজে থেকে এই ঋণের কথা বলে না, আপনাকে জেনে গিয়ে চাইতে হয়। নিচে পুরো নিয়মটা খোলাখুলি লিখলাম।

ছাদে সোলারের জন্য কি আসলেই কম সুদের ঋণ আছে?

আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন রিফাইন্যান্স স্কিমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রকল্প, রুফটপ সোলারসহ, কম সুদের ঋণের আওতায় পড়ে। গবেষণা সংস্থা IEEFA-র ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই স্কিমে সুদ সর্বোচ্চ প্রায় ৫ শতাংশ, মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত যেতে পারে, অথচ দেশে সাধারণ ঋণের সুদ প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ। একই বিশ্লেষণে আরও একটা জরুরি তথ্য আছে: এই তহবিলের বড় অংশ পড়েই থাকে, বিতরণ কম। অর্থাৎ টাকা আছে, নেওয়ার লোক কম।

সুদের হার কত?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের সার্কুলার অনুযায়ী গ্রিন প্রোডাক্টের ঋণে সুদ মেয়াদভেদে ঠিক হয় (সূত্র: The Business Standard):

ঋণের মেয়াদ সুদের হার
৫ বছরের কম ৫%
৫ থেকে ৮ বছর ৫.৫%
৮ বছরের বেশি ৬%
তুলনায়: সাধারণ ঋণ প্রায় ১৪–১৫%
সাধারণ ঋণ বনাম গ্রিন রিফাইন্যান্স ঋণের সুদের হারের তুলনা

একটা সৎ সতর্কতা: এই হারগুলো সময়ে সময়ে সার্কুলারে বদলায়। আবেদনের আগে নিজের ব্যাংক থেকে চলতি হারটা জেনে নিন। তবে মূল কথাটা বদলায় না: গ্রিন স্কিমের সুদ সাধারণ ঋণের তিন ভাগের এক ভাগ।

খবরে যে ২ শতাংশ সুদের কথা শোনা যাচ্ছে, সেটা কী?

সেটা এখনও কোনো চালু স্কিম নয়, একটা দাবি। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি মার্কেট ও বিপণিবিতানের ছাদে সোলার বসানোর জন্য ২ শতাংশ সুদে ৫ থেকে ৭ বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন জানিয়েছে (সূত্র: জাগোনিউজ২৪)। সরকার মেনে নিলে মার্কেট-মালিকদের জন্য ভালো খবর হবে, কিন্তু আজকের দিনে এটা ধরে পরিকল্পনা করবেন না। আজ যা সত্যিই পাওয়া যায়, সেটা উপরের গ্রিন রিফাইন্যান্স।

ঋণ নিয়ে বসালে হিসাবটা মেলে কীভাবে?

একটা খোলা উদাহরণ দিই, সংখ্যাগুলো আনুমানিক। আমাদের ৫ কিলোওয়াট কমপ্লিট প্যাকেজের দাম ৳৩,৬১,৯০০। পুরোটা ঋণে নিয়ে ৫.৫ শতাংশ সুদে ৭ বছরে শোধ করলে মাসিক কিস্তি পড়ে আনুমানিক ৳৫,২০০। অন্যদিকে সিস্টেমটা প্রতি মাসে দুই ভাবে টাকা ফেরত দেয়: বিদ্যুৎ বিল কমে, আর বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করে ইউনিটপ্রতি ৳১০.৫০ আসে। কোন সিস্টেমে বিক্রি থেকে কত আসতে পারে, সেই পুরো হিসাব আমরা আলাদা করে লিখেছি ৳১০.৫০ টাকায় বিদ্যুৎ বিক্রির নিয়ম লেখায়। দুয়ে মিলিয়ে কিস্তির বড় অংশ সিস্টেম নিজেই তুলে দিতে পারে, তবে পুরোটা নির্ভর করে আপনার বিল আর ব্যবহারের ওপর। নিজের সংখ্যা দিয়ে মিলিয়ে নিতে পেব্যাকের হিসাব লেখাটা কাজে লাগবে।

সোলার ঋণের মাসিক কিস্তি ও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের ভারসাম্য

ঋণের জন্য আবেদন করবেন কীভাবে?

গ্রিন রিফাইন্যান্সের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি দেয় না, দেয় আপনার নিজের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। তাই প্রথম কাজ নিজের ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সোজা জিজ্ঞেস করা: নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা গ্রিন প্রোডাক্টের ঋণ আপনারা দেন কি না, সুদ কত, কী কাগজ লাগবে। ব্যাংক সাধারণত সিস্টেমের দামসহ একটা কোটেশন চাইবে। আমাদের কাছ থেকে যেকোনো প্যাকেজের যন্ত্রাংশের তালিকা ও দামের কোটেশন নিতে পারেন, এটা ফ্রি। আর সোলার বসানোর পর নেট মিটারিংয়ের আবেদন কীভাবে করবেন, কত দিন লাগে, সেসব ধাপ নেট মিটারিংয়ের লেখাটায় পাবেন।

সোলার ঋণের আবেদন: ব্যাংক ও কাগজপত্র থেকে ছাদে সোলার

কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?

তিনটে কথা মনে রাখুন। এক: খবরের শিরোনাম দেখে নয়, ব্যাংকের কাগজে সুদের হার আর মেয়াদ দেখে সিদ্ধান্ত নিন। দুই: ঋণ পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের চেয়ে বড় সিস্টেম নেবেন না, আগে লোডের হিসাব করুন, প্রয়োজনে সোলার ক্যালকুলেটর দিয়ে মাপ যাচাই করে নিন। তিন: ৳১০.৫০ হারে বিক্রির সুযোগ পেতে হলে সিস্টেম বসাতে হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে, তাই ঋণের প্রক্রিয়া দেরিতে শুরু করলে সময় কমে আসবে।

কোন মাপের সিস্টেম আপনার জন্য ঠিক, আর কোটেশন লাগলে ০১৭১১-৪৫৬১৬৬ নম্বরে কল করুন, পরামর্শ ফ্রি। শোরুম: কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স, ভবন ০১ (১ম তলা), দোকান নং ১৮৯, ঢাকা ১২০৩। কমপ্লিট প্যাকেজগুলো দেখুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। আবশ্যক ঘরগুলো চিহ্নিত করা আছে।