গ্যাসের চাপ কম, ডিজেলের দাম বেশি: কারখানা চালানোর বিদ্যুৎ এখন অনেক মালিকের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। এই লেখাটা তাদের জন্য যারা ভাবছেন, কারখানার ছাদে সোলার (industrial rooftop solar) বসালে আসলেই কি লাভ হয়? ছোট উত্তর: হয়, এবং বাসার চেয়ে কারখানায় হিসাবটা আরও ভালো মেলে: কারণ কারখানা চলে দিনের বেলায়, আর সোলার বিদ্যুৎও তৈরি হয় দিনে। নিচে পুরো হিসাবটা খোলাখুলি করলাম: কোথায় লাভ, কোথায় সীমাবদ্ধতা, আর নেট মিটারিংয়ের নতুন নিয়মে কী বদলেছে।
কারখানায় captive power বলতে কী বোঝায়?
Captive power মানে নিজের ব্যবহারের জন্য নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, গ্রিডে বেচার জন্য নয়। বাংলাদেশের কারখানায় এর চেনা রূপ হলো গ্যাস জেনারেটর আর ডিজেল জেনসেট। এই ব্যবস্থার সুবিধা হলো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে; অসুবিধা হলো প্রতিদিন জ্বালানি কিনতে হয়, আর জ্বালানির দাম বা সরবরাহ কোনোটাই আপনার হাতে নেই। সোলারও এক ধরনের captive power, পার্থক্য একটাই: জ্বালানির খরচ শূন্য।
সোলার কি জেনারেটরের জায়গা পুরোপুরি নিতে পারে?
না, এবং এটা সোজাসুজি বলে দেওয়াই সৎ। সোলার বিদ্যুৎ দেয় দিনের বেলায়, আর মেঘলা দিনে উৎপাদন কমে: তাই রাতের শিফট বা জরুরি ব্যাকআপের জন্য গ্রিড বা জেনারেটর থাকবেই। সোলারের আসল কাজ হলো দিনের বেলার জ্বালানি পোড়ানো কমিয়ে আনা, যে ঘণ্টাগুলোয় এমনিতেই কারখানার লোড সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ সোলারকে জেনারেটরের বিকল্প না ভেবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী সহযোগী ভাবাই ঠিক হিসাব।

কারখানার জন্য সোলার কেন বাসার চেয়েও বেশি লাগসই?
বাসার বিদ্যুৎ লাগে মূলত সন্ধ্যা-রাতে, তাই সেখানে ব্যাটারি লাগে। কারখানা উল্টো: সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মেশিন চলে, আর ঠিক তখনই প্যানেল বিদ্যুৎ দেয়। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় পুরোটাই সরাসরি কাজে লাগে: বড় ব্যাটারি ব্যাংক না কিনলেও চলে, যা মোট খরচ অনেকটা কমিয়ে দেয়। অন-গ্রিড নাকি হাইব্রিড: কোন পথে যাবেন, সেটা বুঝতে অন-গ্রিড, অফ-গ্রিড নাকি হাইব্রিড লেখাটা দেখুন।

নেট মিটারিংয়ের নতুন নিয়মে কী বদলেছে?
নেট মিটারিং মানে: দিনে বাড়তি উৎপাদন গ্রিডে যায়, সেটা আপনার বিল থেকে কাটা যায়: দুইদিকে মাপা একটা নেট মিটার লাগে। ২০২৫ সালে SREDA-র সংশোধিত গাইডলাইনে নিয়মগুলো আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে (pv magazine-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী):
| আগের নিয়ম | ২০২৫-এর নতুন নিয়ম | |
|---|---|---|
| সোলারের সর্বোচ্চ সাইজ | অনুমোদিত লোডের (sanctioned load) ৭০% | সাঙ্কশনড লোডের ১০০% |
| কারা আবেদন করতে পারেন | শুধু থ্রি-ফেজ গ্রাহক | সিঙ্গেল-ফেজও পারবেন |
| কোন মিটারে চলবে | শুধু পোস্টপেইড | প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারেও |
| আবেদন | কাগজে-কলমে | অনলাইনে |
কারখানার জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন প্রথমটা: আগে যে কারখানার সাঙ্কশনড লোড ১০০ কিলোওয়াট, তারা ৭০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার বসাতে পারত, এখন পুরো ১০০ কিলোওয়াটই পারবে।

ছাদে কতটুকু সিস্টেম ধরবে?
মোটা দাগে ১ কিলোওয়াটের জন্য ৬০–৭০ বর্গফুট ছায়ামুক্ত জায়গা লাগে। অর্থাৎ ১০,০০০ বর্গফুটের একটা টিনশেড খোলা থাকলে মোটা দাগে ১৪০ কিলোওয়াট পর্যন্ত প্যানেল বসানো সম্ভব: এটা আনুমানিক হিসাব, ছাদের কাঠামো, ছায়া আর রক্ষণাবেক্ষণের হাঁটাপথ বাদ দিলে কমবে। পাশের ভবনের ছায়া, পানির ট্যাংক, এগুলো আগেই মেপে নেওয়া জরুরি।
খরচ কেমন পড়বে?
সৎ উত্তর: বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিস্টেমের একটা নির্দিষ্ট দর আমরা এখানে লিখব না, কারণ সেটা প্রকল্পভেদে আলাদা: অনুমান করে সংখ্যা বসানো আমাদের নিয়মে নেই। তবে একটা ধারণা দেওয়া যায়: আমাদের সবচেয়ে বড় রেডি প্যাকেজ ১০ কিলোওয়াট কমপ্লিট সিস্টেম ব্যাটারিসহ ৳৫,৯৩,১০০: ছোট কারখানা বা অফিসের জন্য এটাই শুরুর জায়গা। দিনের লোড বেশি এমন কারখানায় ব্যাটারি ছাড়া অন-গ্রিড সিস্টেম করলে প্রতি ওয়াটে খরচ আরও কম পড়ে। খরচ কত দিনে উঠে আসবে, সেটা নিজে হিসাব করার পদ্ধতি দেখিয়ে দিয়েছি পেব্যাকের হিসাব লেখায়: কারখানার বেলায় দিনের ব্যবহার বেশি বলে হিসাবটা সাধারণত বাসার চেয়ে দ্রুত মেলে।
শুরু করবেন কোথা থেকে?
তিনটে জিনিস হাতে নিয়ে আসুন: সর্বশেষ বিদ্যুৎ বিল (সাঙ্কশনড লোড আর মাসিক ইউনিট জানার জন্য), ছাদের আনুমানিক মাপ, আর দিনে কোন কোন মেশিন কতক্ষণ চলে তার তালিকা। ০১৭১১-৪৫৬১৬৬ নম্বরে কল করুন: আমরা লোড হিসাব করে বলে দেব কোন মাপের সিস্টেম ঠিক, আর কোনটা আসলে দরকার নেই। পরামর্শ ফ্রি। চাইলে কাপ্তান বাজারের শোরুমে এসে যন্ত্রগুলো নিজের চোখে দেখে যান: কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স, ভবন ০১ (১ম তলা), দোকান নং ১৮৯, ঢাকা ১২০৩। কমপ্লিট প্যাকেজগুলো দেখুন বা সোলার ক্যালকুলেটরে নিজেই হিসাব করুন।

মন্তব্য করুন