নেট মিটারিং হলো এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে আপনার ছাদের সোলার থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে ফেরত যায়, আর সেটা আপনার বিল থেকে বাদ যায়। ২০২৫ সালে নিয়ম সংশোধনের পর এটা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।
এই লেখায় যোগ্যতা, আবেদনের ধাপ, সময়সীমা আর হিসাব নিষ্পত্তির নিয়ম — সব এক জায়গায়।
নেট মিটারিংয়ে কত কিলোওয়াট পর্যন্ত সিস্টেম বসানো যায়?
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী এখন আপনার সাংকশনড লোডের শতভাগ পর্যন্ত সোলার বসানো যায়। আগে এই সীমা ছিল ৭০%, তাই এখন একই বাড়িতে আগের চেয়ে বড় সিস্টেম সম্ভব।
মিডিয়াম ভোল্টেজ (11kV বা তার বেশি) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সীমা ধরা হয় ট্রান্সফরমারের ক্ষমতার ৮০%। এর চেয়ে বড় হলে আলাদা কমিটির অনুমোদন লাগে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
বিতরণ সংস্থার (BPDB, BREB, DESCO, DPDC, WZPDCL, NESCO) সকল শ্রেণির গ্রাহক — আবাসিক থেকে শিল্প পর্যন্ত। শর্ত তিনটা: বিল বকেয়া থাকা যাবে না, বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকতে হবে, আর ছাদের মালিকানা বা মালিকের লিখিত অনুমতি লাগবে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন — আগে সিঙ্গেল ফেজ গ্রাহকরা বাদ পড়তেন, এখন তাঁরাও আবেদন করতে পারেন। প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটার থাকলেও হবে।
নেট মিটারিংয়ের আবেদন কীভাবে করবেন?
অনলাইনে nem.powerdivision.gov.bd পোর্টালে আবেদন করা যায়, অথবা সরাসরি বিতরণ সংস্থার অফিসে হার্ড কপি জমা দেওয়া যায়। পুরো প্রক্রিয়াটা পাঁচ ধাপের।
- আবেদন জমা — বিদ্যুৎ বিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, ছাদের মালিকানার কাগজ আর সিস্টেমের ডিজাইন সহ
- অনুমোদন — বিতরণ সংস্থা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে
- সিস্টেম বসানো — অনুমোদনের পর ৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে
- পরিদর্শন ও পরীক্ষা — সংস্থার প্রকৌশলী সিস্টেম দেখে যাচাই করবেন
- চুক্তি স্বাক্ষর — ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে, তারপর থেকেই হিসাব শুরু
নেট মিটার কে কিনবে?
দ্বিমুখী বা নেট মিটারের খরচ গ্রাহককেই বহন করতে হয়। এই মিটার আলাদাভাবে হিসাব রাখে — গ্রিড থেকে কত নিলেন আর গ্রিডে কত পাঠালেন।
সরকারি নেট মিটারিংয়ের সঙ্গে ব্যবহারের জন্য সার্টিফাইড এনার্জি মিটার দরকার হয়। SurjoX-এ Secure এনার্জি মিটার পাবেন — বাসাবাড়ির জন্য সিঙ্গেল ফেজ Saral, আর বাণিজ্যিক সংযোগে CT/VT অপারেটেড Premier 300। কেনার আগে আপনার বিতরণ সংস্থার স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে নেবেন।
উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎের দাম কীভাবে পাবেন?
গ্রিডে পাঠানো বিদ্যুতের ওপর ১০% রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কাটা হয়, বাকি ৯০% আপনার বিলে জমা হয়। প্রতি তিন মাস পর (মার্চ, জুন, সেপ্টেম্বর, ডিসেম্বর) হিসাব নিষ্পত্তি হয়।
তখনও যদি জমা থাকে, সেটা BERC-এর বাল্ক জেনারেশন রেটে কিনে নেওয়া হয় — আর সংশোধিত নিয়মে সেই টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হয়।
নেট মিটারিংয়ে ব্যাটারি লাগবে?
বাধ্যতামূলক নয়। শুধু বিল কমানোই লক্ষ্য হলে ব্যাটারি ছাড়া অন-গ্রিড ইনভার্টার দিয়েই হবে, আর খরচও কম।
তবে মনে রাখবেন — অন-গ্রিড ইনভার্টার লোডশেডিংয়ে বন্ধ হয়ে যায়, এটা নিরাপত্তার নিয়ম। ব্যাকআপও চাইলে হাইব্রিড ইনভার্টার ও ব্যাটারি লাগবে — সেই হিসাব সোলার সিস্টেমের দাম গাইডে দেওয়া আছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নেট মিটারিং গাইডলাইন (সংশোধিত সেপ্টেম্বর ২০২৫) ও SREDA। নিয়ম বা হার পরিবর্তন হতে পারে — আবেদনের আগে আপনার বিতরণ সংস্থার সাথে যাচাই করে নেবেন।
